Sunday, 31 July 2011

হরিশরাজার জঙ্গলে- পর্ব ৭

মাঝরাতে গোবিন্দখুড়োর ঘুম ভেঙে গেল। কোথা থেকে চাপা স্বরে কাদের সব কথাবার্তা ভেসে আসছেপ্রায় ফিসফিস করে, শোনাই যায় না। চোর ছ্যাঁচোড় নাকি? খুড়ো কান খাড়া করে শুনতে লাগলেন। জিনিসপত্র নাড়াঘাঁটার টুকটাক শব্দ হচ্ছে। পায়ের খসখসানি, টেবিলের উপর বইপত্রের নাড়াচাড়া। খুড়ো পা টিপে টিপে শোওয়ার ঘরের ছিটকিনি খুলে সাবধানে দরজার ক্যাঁচকোঁচ সামলে বাইরের দালানে বেরোলেন। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। চাঁদের আলোটুকু অবধি নেই। আশপাশ সব যেন ঝিম মেরে রয়েছে। দূরে হরিশরাজার জঙ্গলে বোধহয় শেয়াল ডাকল।
     সাবেক আমলের জমিদারবাড়ীতে যেমন মাঝখানে রোয়াক থাকে সেইরকম দূর্গাদালানের চারপাশে সারিসারি ঘর। একপাশ দিয়ে সিঁড়ি উঠে গেছে। দোতলার নকশাও একইরকম। বেশিরভাগ ঘর ই তালাবন্ধ। একতলায় বৈঠকখানা আর রান্নাঘর খালি খোলা থাকেদোতলায় পশ্চিমদিকে খুড়োর শোওয়ার ঘর। পাশের ঘরে যতরাজ্যের পুরনো আসবাবপত্র ডাঁই করে রাখা। শৌখিন খাটপালঙ্ক চেয়ার, বইপত্র ঠাসা আলমারি, স্প্রিং দেওয়া গ্রামোফোন, আরামকেদারা, কিম্ভুত কিমাকার কিছু মূর্তি, নানারকম ডিজাইনের হুঁকো কলকে ইত্যাদি। উপেন্দ্রনারায়ন বেঁচে থাকাকালীন ঘরখানি ব্যবহার করতেন। ইদানীং খোলাই পড়ে থাকে।
     সাধারনতঃ বছরের এই সময় কেউ না কেউ তাঁর বাড়িতে চুরি করতে আসে। বেশীর ভাগই উঠতি চোর। হাত পাকানোর তালে থাকে। খুড়ো ওদের কিছু অবশ্য বলেন না। রোগা লিকলিকে হাত পাদেখলে মায়া হয়। সারা গায়ে তেল মেখে চুপিচুপি রান্নাঘরের তলা দিয়ে সিঁধ কেটে ঢোকে। দশ ইঞ্চি পুরু দেওয়ালে সিঁধ কাটতে অবশ্য পুরো রাতটাই কাবার হয়ে যায়। এই যেমন সেদিন কালীগঞ্জের বখতিয়ারউদ্দিন অনেকক্ষন ধরে চেষ্টা করছিল। শেষে উল্টোদিক থেকে খুড়ো একটু হাত লাগাতে কাজটা তবু তাড়াতাড়ি হল। তারপর রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে একগ্লাস বেলের পানা দেওয়া শরবত আর আমসত্ত্ব খেয়ে বখতিয়ারুদ্দিন সলজ্জ হেসে বলল, ‘বয়স হয়েছে তো, তাই হাত পা আর চলে না।’
     অবশ্য সব চোরই ওরকম বুড়ো হাবড়া নয়। ছেলে ছোকরারা রীতিমতো গাছ কিংবা দেওয়াল বেয়ে ঢোকে। তাদের জন্য কুলুঙ্গিতে টিংচার আয়োডিন রাখা থাকে। বাড়ীতে ঢুকে প্রথামাফিক সবাই এটাসেটা উল্টোয়, ঘরের কোনে রাখা তেলের কুপি নিভিয়ে দেয়, সিঁড়ির দেওয়ালে ঝোলানো ছবিটার পেছন দিকটা নেড়ে ঘেটে দেখে। খাটপালঙ্ক বিছানা তোষক আলমারি, মায় চালের হাঁড়ির ভেতর অবধি আঁতিপাঁতি করে সেই সব পায়রার ডিমের মতো গোলগোল মুক্তো খোঁজে। তবে পাবে কি করে। থাকলে তো? মাঝে মধ্যে ওদের সাথে খুড়োও একবার করে খুঁজে নেন। ওরা একটু বিরক্ত হয় বটে, তবে শেষমেশ হেঁসেলে গিয়ে হাঁড়ির ভেতর পান্তা আর লঙ্কা দেখে মহাখুশি হয়ে একলপ্তে সাবাড় করে দিব্যি নাক ডাকায়। ওদেরই কেউ আবার এলো নাকি ? কথাবার্তার শব্দ মনে হচ্ছে পাশের ঘর থেকে আসছে।
     উপেন্দ্রনারায়নের ঘরের দরজায় খুড়ো কান পেতে শুনলেন তাঁর সন্দেহ একেবারে ঠিক। ভেতরে কারা সব যেন রয়েছে ঢুকল কোথা দিয়ে? বোধহয় পাশের কাঁঠাল গাছ বেয়ে এসেছে। দরজা সামান্য ফাঁক করে দেখতে পেলেন দুটো ছায়ামূর্তি নিজেদের মধ্যে চাপাস্বরে কথাবার্তা বলছে।
—‘শ স স স। বুঝলি একেবারে সঠিক জায়গায় হানা দিয়েছি।’
—‘আজ্ঞে কী করে বুঝলেন?’
—‘ঐ মূর্তিটা দেখছিস, কিংবা ঐ কাঠের টেবিলটা। কত পুরোনো। আমি বেশ রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি।’
—‘কিরকম, কিরকম?’
—‘আহ। এই দেখ না ঐ যে বইয়ের আলমারির ভেতর কালো নস্যির কৌটো। বুঝতে পারছিস!’
—‘ইয়ে, এখনো তো ঠিক বুঝছি না মনে হচ্ছে।’
—‘ওরে পাগলা, বইয়ের আলমারিতে নস্যির কৌটো থাকবে কেন?’
—‘কেন?’
—‘ওটা হচ্ছে একটা ক্লু। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওটার পিছনে ঐ যে কিসব অদ্ভুত ভাষায় লেখা বইটা আছে, ওটা সরালেই কোন গুপ্ত দরজার খোঁজ পাওয়া যাবে
—‘গুপ্ত দরজা? কেন কেন গুপ্ত দরজা কেন?’
—‘আহা দেখিস না, বড় বড় গোয়েন্দারা ওরকম নস্যির কৌটো দেখেই তো সব টের পায়। আর তাছাড়া এরকম পুরোনো বাড়িতে গুপ্ত দরজা থাকে। হয়তো দেখবি ওর ভেতরে কোন ধনরত্ন আছে।’
—‘আজ্ঞে সেটা কী করে বুঝলেন?’
—‘হুঁ হুঁ বাবা, চালাকি নয়, ঐ দ্যাখ বাঁদিকের দেওয়ালে কতদিনের পুরোনো ঝুলকালি মাখা সব পোট্রেট ঝুলছে। প্রথম ছবিতে জমকালো কাপড় চোপড় পরা লোকটার চোখ কোনদিকে ইশারা করছে দেখছিস? ওই ইশারা মিলিয়ে দেখলে দেখবি ডানদিকের ছবিটাতে রানীমার কোলে যে বেড়ালটা আছে ওটার গায়ের রঙ কালো এসব হল গিয়ে গুপ্তধনের নিশেন।’
—‘হ্যাঁ হ্যাঁ, আমিও নিশেন পেয়েছি। ওই যে কালো ল্যাজওলা মূর্তিটা, ওর হাতের বর্শাটার গায়ে গোল গোল দাগ। তারপর ওই গোল শ্বেতপাথরের টেবিলের উপর কাগজ কলম দোয়াত রাখা, আর সেইসঙ্গে দুপাটি চটি, তারপর ধরুন—’
—‘দ্যুৎ! থামবি? গুপ্তধনের আসল ক্লু পাওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। ক্লু গুলো বিশ্লেষণ করতে হবে না? প্রথমে দেখতে হবে মূর্তিটার হাতে বর্শা কেন? তারপর দেখতে হবে বর্শার গায়ে কেন গোল গোল দাগ। সেসবের হদিস পেলে তবেই না দোয়াত কলম কাগজ ওইসব হিসেবের মধ্যে আসবেতবে লক্ষ্য করেছিস কি ছবিতে রানীমা যে টেবিলের সামনে বসে আছেন সেটা অবিকল এই টেবিলটার মত।’
—‘তা তো বটেই। এ তো পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া রানীমার টেবিলেও তো এই রকমই কাগজ কলম দোয়াত রাখা আছে বলে মনে হচ্ছে।’
—‘বটে বটে! আলোটা একটু ধর দেখি।’
একজন হাতের কালো কাগজ মোড়া লন্ঠনটা একটু তুলে ধরল। অন্যজন সেই আবছা আলোয় দেওয়ালের ছবিটা নিবিষ্ট মনে লক্ষ্য করতে লাগল। দুজনেরই আপাদমস্তক কালো র‌্যাপার ঢাকা, মায় মুখ অবধিতবে এ তো পরিস্কার বোঝাই যাচ্ছে একজন একটু মাঝারি লম্বা, মোটা হোঁৎকা গোঁফওলা, কুতকুতে চোখ, হাতে হামানদিস্তা মতো কিছু একটা ধরা। আরেকজন একটু বেঁটে, রোগা শিড়িঙ্গে মার্কা, বড় বড় চোখ, পায়ে ক্যাম্বিসের জুতো। দরজার ফাঁক দিয়ে জুলজুল চোখে খুড়ো দেখতে পেলেন হোঁৎকাটা তাঁর সাধের বেতের চেয়ারের উপর চটিসুদ্ধু উঠে দঁড়িয়ে লন্ঠনটা তুলে দেওয়ালে রানীমার ছবিটার দিকে হাঁ করে চেয়ে কিসব দেখছে। অন্যজন ওর সাগরেদ বোধহয়, জামার পকেট থেকে একতাড়া কাগজ লন্ঠনের মৃদু আলোয় পড়বার চেষ্টা করছে। কাগজে আবার কি সব লেখা, সিংহ, কাঁকড়া, ডোনেশান, ঘন্টা। ইস কিসব বানান ভুল। খুড়ো বেশ বিরক্ত হলেন।
এদিকে হোঁৎকাটা চেয়ার থেকে নেমেছে। পা টিপে টিপে সাবধানে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে টেবিলের দিকে এগোচ্ছে। ওর নজর টেবিলের উপর কাগজটার দিকে। খুড়োর অসোয়াস্তি হল। ঘরে তো কেউ নেই বাপু, সোজা গিয়ে টেবিল থেকে কাগজটা তুলে নিয়ে পড়লেই তো হয়। অত নিয়ম কানুন মেনে কি হবে।
—‘আলোটা এদিকে নিয়ে আয়।’
—‘আজ্ঞে কিছু পেলেন নাকি?’
—‘দেখেছিস! টেবিলের উপর হলদেটে কাগজে কিসব নকশা আঁকা। ছবিতে রানীমার টেবিলের উপরে রাখা কাগজেও একই নকশা দেখলাম!’
—‘বলেন কি?’
—‘এ নির্ঘাৎ গুপ্তধনের নকশা না হয়ে যায় না।’
—‘আজ্ঞে তা তো বটেই। কাগজের উপরেই তো লেখা আছে।’
—‘দ্যুৎ, ওটা একটা কৌশল, লোককে ধোঁকা দেওয়ার জন্য।’
—‘কৌশল! সেটা কিরকম, ও ও সেই যেবার আপনি কৌশল করে গোয়ালে—’
—‘আবার ওইসব কথা! তোকে কতবার বারণ করেছি না? যাক গে, নকশাটা ভালো করে দেখতে দে।’
অপেক্ষাকৃত মোটা লোকটা টেবিল থেকে কাগজটা তুলে নিয়ে লন্ঠনের আলোয় ধরে দেখতে লাগল। পকেট থেকে একটা আতস কাঁচ আর নোটবই বার করেছেপ্রথমে কাগজের পেছন দিকটা ভালো করে দেখে নোটবই তে কিসব আঁকিবুকি কাটতে লাগল। তারপর কাগজটাকে খুব কসরত করে উলটে পালটে নানান কায়দা করে দেখে, কিসব ভেবে আবার নোটবই খুলে লিখতে লাগল। খুড়ো ভালো করে নজর করে দেখলেন নোটবইয়ের বাঁদিকের পাতায় লেখা আছে ‘পর্যবেক্ষন’,  ডানদিকের পাতার উপরের দিকে কালো কালিতে লেখা ‘ফলাফল’হোঁৎকাটা তার নিচে লিখেছে ‘গুপ্তধনের নকশা হইলেও হইতে পারে’উঃ কি বুদ্ধি এদের। নকশা হইলেও হইতে পারে! আরে ওটা আলবাত গুপ্তধনের নকশা। সেই কবে বাপ পিতেমোর আমল থেকে খুড়ো দেখে আসছেন। পরিস্কার সমস্ত কিছুর হদিস দেওয়া। হলদেটে তুলট কাগজের চারধারে নানারকম নকশি করা কাজমাঝখানে নীল রঙে একটা বড় করে গোল বৃত্ত। পাশে ব্যাঁকাটেরা হাতে লেখা হরিশরাজার জঙ্গল। বৃত্তের মাঝখানে আবার একটা গোল। এবার লাল রঙে। তার পাশে একটা ঘন্টার ছবি। ওই গোলের মাঝখানে আবার একটা চৌকো। পাশে লেখা পাথরগুহাআর চৌকোর মাঝখানে বড় বড় করে ঢেঁড়া কেটে লেখা সাবধান। একদম সহজ সরল নকশা। যথাযথ দিক নির্দেশ অবধি দেওয়া আছে গুটিগুটি গিয়ে খপ করে বাগিয়ে নিলেই হয় আর কি।
মোটা লোকটা নকশাটা নোটবইয়ের ভেতর ভাঁজ করে ঢুকিয়ে বইটা ট্যাঁকে গুঁজে গম্ভীর মুখে বলল, ‘হুম।’ তারপর চেয়ারে বসে আরাম করে ঠ্যাং দুটো রেখে সাগরেদের দিকে আড়চোখে চেয়ে বলল, ‘বুঝেছি।’
অন্যজন এতক্ষন রানীমার ছবিটা হাঁ করে দেখছিল, কথাটা শুনে খাড়া হয়ে বলল, ‘কি বুঝলেন?’
—‘আচ্ছা বল তো, এই যদি গুপ্তধনের নকশা হবে তাহলে এটা এখানে এমনভাবে রাখা থাকবে কেন?’
—‘তাই তো, কেন?’
—‘এটা মোটেও গুপ্তধনের নকশা নয়।’
—‘নয়!’
মোটা লোকটা চেয়ার ছেড়ে উঠে ঘরময় পায়চারি করে বলল, ‘গুপ্তধন কি হেলাফেলার করার মতো জিনিস নাকি যে তার সংকেত এমন ছাপোষা হবে। একটাও ধাঁধাঁ নেই। কোন কিছু সাঁটে বলা নেই। এযেন আমাদের গঞ্জের হাটের মুদিখানার দোকানের হালহদিস, ‘শিবু ময়রার দোকানের পাশে বাঁদিকে’তারপর ধর গুপ্তধনটাই বা কী সেটাও তো ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। হয়ত খুঁজে পেতে গিয়ে দেখলি কতগুলো বনমুরগী চরে বেরাচ্ছে।’
—‘বুঝেছি। সেই সেবার যেমন বিন্তীপিসীর ভাঁড়ার ঘরে—’
—‘আবার !’ মোটাটা তো মহা খাপ্পা। প্রায় দুঘা দেয় আর কী। সুঁটকেটা দুহাত পিছিয়ে এসে বলল, ‘আচ্ছা আচ্ছা আর বলবনা। কিন্তু তাহলে এটা কী?’
—‘সহজ উত্তর। এটা স্রেফ একটা ধাপ্পা।’
—‘তাই বুঝি!’
—‘ঠিক তাই। আমার মনে হয় কেউ আমাদের বোকা বানাতে চাইছে। ওইসব গুপ্তধন বলে কিস্যু নেই।’
—‘কিন্তু তাহলে ওই ছবিটাতেও অমন হুবহু নকশার মানে কি?’
—‘নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আরো ক্লু দরকার। তবে ওটাও হয়ত ধাপ্পা।’
খুড়ো আর থাকতে না পেরে দড়াম করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে বললেন, ‘কি ধাপ্পাটা কী শুনি? ওটা যাকে বলে দস্তুরমতো গুপ্তধনের ম্যাপ। একেবারে বর্ণে বর্ণে সত্যি। গিয়ে একবার চাক্ষুস করেই এস না। গোনাগুনতি হাজার খানেকের কিছু বেশী মোহর আছে। এই এত বড় বড়। আবার ন্যাকা সেজে বলিস না যেন জানলুম কি করে। আমার হকের ধন বুঝলি। নকশায় সমস্ত বলে দেওয়া আছে দেখছিস নানিবি নাকি? আদ্ধেক তোদের আদ্ধেক আমার। খালি আমার একটা উপগার করে দে বাপ। ওই পাথরগুহার ভেতর একখান বালিঘড়ি আছে। ওটা শুধু একবারটি—’
লোকদুটো এতক্ষন হাঁ করে গোবিন্দখুড়োর দিকে চেয়েছিল। যাকে বলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। হঠাৎ ‘বাবাগো’ বলে ডাক ছেড়ে এ ওর পা মাড়িয়ে চেয়ার টেবিল উলটে ফেলে ফুলদানী ভেঙ্গে দুদ্দাড় করে দরজা দিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল।
খুড়োও পেছন পেছন ছুটে বেরিয়ে এসে বলতে লাগলেন, ‘এত পালানোর কি আছে এ্যাঁ! না হয় রাতবিরেতে গেরস্থবাড়িতে হানা দিয়েছিস, তাবলে অত লজ্জা পাবার কি আছে? দুটো কথা কইবার যো নেই। কি আক্কেল সব তোদের। না হয় ভাগ-বাঁটোয়ারা পছন্দ হয় নি তা বলে একটুও দর কষাকষির জায়গা দিবি না। চোর হয়ে এত গুমোর কিসের তোদের? আরে শোন শোন—’
লোকদুটো ততক্ষনে সিঁড়ি দিয়ে একতলায় নেমে সদর দরজার দিকে উর্দ্ধশ্বাসে দৌড় লাগিয়েছে।
খুড়ো দোতলার বারান্দার রেলিং ধরে চীৎকার করতে লাগলেন, ‘ওরে হতভাগারা সদর দরজায় তালা দেওয়া। এই মাঝরাতে আমাকে দিয়ে চাবি খোঁজাবিনা বলে দিলুম। আর লজ্জা করে না তোদের হাতে সিঁদকাঠি নিয়ে বাড়ীর সদরদরজা খুলে বেরোতে। তোরা চোর না নবাবপুত্তুর!’
লোকদুটো সদরদরজায় অনেক ধাক্কাধাক্কি করার পর হতাশহয়ে উপরপানে খুড়োর দিকে তাকাল। পরক্ষনেই আঁতকে উঠে হুড়মুড়িয়ে উঠোনের এককোনে রাখা বড় ঘরাঞ্চি বেয়ে পাশের গোয়ালঘরের ছাদে উঠে পুঁইমাচা লন্ডভন্ড করে ছুটে পালাল।
খুড়ো তখনও চেঁচাচ্ছেন, ‘ওরে পাষন্ডের দল, বলি মানুষ না গোভুত তোরা। কী খারাপ বলেছি বল? নিজের সাধ্যে কুলোবে না তাই না তোদের বলা। কী জন্য এত হুটোপাটি শুনি? তোদের ইউনিয়নে চাঁদা দিই না আমি।’
লোকদুটো অবশ্য ততক্ষনে পগার পার। অবশ্য ওরকম হাঁচোড় পাঁচোড় করে পালানোর কারনটাও জলের মতো স্পষ্ট।
     ওই ঘুটঘুটে অন্ধকারে খুড়োর মাথা জুড়ে সবুজ রঙের আলো ঠিকরে বেরোচ্ছিল যে।

No comments:

Post a Comment