Tuesday, 3 April 2012

রোজনামচা ১


রাতবিরেতে একা একা ঘুরে বেড়াই। স্কুটার। তেল পোড়ে। মধুকা মার্গ। কানের পাশে ক্রমাগতঃ শব্দ। স্পিডোমিটার অনুযায়ী তিরিশ সেন্টিমিটারের আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকলটার ক্রুজ স্পীডও এটাই। আমার হাতের কব্জির শীতবোধ ক্রমশঃ উঠে আসে গলায়। নির্লিপ্তি নিয়ে এগিয়ে পিছিয়ে দেখি একমাত্র উষ্ণতা জমানো স্থানগুলোতেও ইন্টিগ্রাল জিওমেট্রিরা দিব্যি বসে আছে।

রাস্তার দুধারে গাছ। নাম গোত্রহীন। অবশ্য কেই বা কবে ভেবেছে ওদের পরিচয়, স্টুপিড ইকোলজির মেয়েগুলো ছাড়া। আমি অতশত চিনি-টিনি না, বড়জোর ওই লালরঙা গাছটাকে শাপমন্যি করতে পারি, কারণ শালারা বাম্পার বসানোর আর জায়গা পায় নি।

মাঝে মাঝে,ঘড়িতে দুটো বাজলেই আমার পাশের ল্যাবে যেতে ইচ্ছে করে। গ্রীসের অর্থনীতি নিয়ে এমন ফোকটে জ্ঞানার্জনের সুযোগ কে ছাড়ে। কেই বা বুঝবে এই যত রাজ্যের ইন্ট্রাক্টেবল প্রবলেম নিয়ে চুপ করে শুয়ে থাকা, বড় বোরিং। তার থেকে বেগম আখতারের গলা নকল করা মাচ বেটার।
কিন্তু এটা কী ইয়ার্কি? পাতার পর পাতা, যেখানে, অক্ষরের চেয়ে প্রতীকের ছড়াছড়ি বেশী, সেই দুনিয়াতে অপচয়? ক্ষমাহীন। মাঝে মাঝে চুপ করে থাকি। ব্রেইল লিপির মতো, মনে মনে ভাবি, সিম্বলগুলোকে কেউ কোন অবয়ব দিলো না হে। সেই বইটার কি যেন নাম ছিল, ফ্ল্যাট স্পেস?

বিশ বছর আগে, বুকশেলফ থেকে খুঁজে পেয়েছিলুম, বাবার কবিতার খাতা। কালো কালির পেনে, রুলটানা খাতায় লেখা ছিল, ‘একদিন আমি রাজা হবো।নীচে অনেকটা স্পেস। হেসেছিলুম, জানেন। মাকালীর দিব্যি।

আজ দেখি লেখাগুলো ঘুরে ফিরে আমার খাতার ভিতর। একদিন আমিও রাজা হবো’... শুধু নীচে এখন আর কোনো স্পেস নেই।

No comments:

Post a Comment